Breaking News
শিশুর সার্বিক বিকাশ

শিশুর সার্বিক বিকাশে শিক্ষাবিদ ও দার্শনিকদের মতামত- Primary Preparation

শিশুর সার্বিক বিকাশ: সামাজিকরণে একজন মানব শিশুর সার্বিক বিকাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর পারিপার্শিক পরিবেশ এবং তার আদর্শ ব্যক্তিত্ব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আজকে আমরা আলোচনা করব শিশুর সার্বিক বিকাশ নিয়ে শিক্ষাবিদ ও দার্শনিকদের মতামত সম্পর্কে।

একজন শিক্ষককে শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য প্রয়ােজনীয় সবরকম যত্ন নিতে হয়: জার্মান শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক ফোয়েবেল

১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে জার্মান দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ ফোয়েবেল কিন্ডারগার্টেন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। কিন্ডারগার্টেন অর্থ শিশুদের বাগান। তাঁর মতে, শিশুদেরকে বাগানের চারা ও ফুলের সঙ্গে তুলনা করা যায়। গাছের চারা ও ফলের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মালকে যেমন সঠিক মাটি, সঠিক এবং পরিমিত সার, পরিমাণ মতাে পানি আগাছা পরিষ্কার প্রভতির কথা অত্যন্ত যত্নসহকারে চিন্তা করতে হয় একইভাবে একজন শিক্ষককে শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য প্রয়ােজনীয় সবরকম যত্ন নিতে হয়।

Primary Preparation : শিশুর সার্বিক বিকাশ

Primary Preparation: শিশুর সার্বিক বিকাশ

কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতি অনুসারে শিশুকে স্বাধীনতা দেওয়া হয় শিক্ষার জন্য। তারা খেলাধুলা ও কজ করার মাধ্যমে শেখে। প্রকৃতি পাঠকে শিশুদের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা হয়। এ পদ্ধতিতে কাজের মাধ্যমে শিশু শিক্ষা গ্রহণ করে, সার্বিক ও স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তার বিকাশ ঘটে। নিজ হাতে কাজ করার জন্য ফোয়েবেল বিশেষ ধরনের শিক্ষা উপকরণ তৈরি করেন এবং এর নাম দেন গিফট বা উপহার।

এগুলাে কতকগুলাে ত্রিকোণ কাঠের টুকরা, নলাকার বস্তু, গােলক, বিভিন্ন রঙের ও আকারের কাঠের বল নিয়ে গঠিত। এসব উপকরণের সঙ্গে মিল রেখে কাগজ ভাঁজ করা, শক্ত কাগজ বা কাদামাটি দিয়ে প্রতীক তৈরি ইত্যাদি উল্লেখযােগ্য। এ পদ্ধতিতে শিশুদেরকে প্রাকৃতিক পরিবেশে শিক্ষাদানের চেষ্টা করা হয় যাতে শিশু সমাজ ও জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যােগাযােগ রেখে বেড়ে ওঠে।

Primary Preparation: শিশুর সার্বিক বিকাশ

ফোয়েবেলের মতে, আত্মােপলব্ধিই শিশু শিক্ষার সবচেয়ে মূল্যবান উদ্দেশ্য। ফ্লোয়েবেল প্রবর্তিত কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতি অনুসরণ করে যে সকল শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়, সেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কিন্ডারগার্টেন স্কুল বলে। এ ধরনের স্কুলের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নানা রকমের কর্মতৎপরতা বা কাজের মাধ্যমে শিশুর সার্বিক সাবলীল বিকাশ ও উন্নতি সাধন।

শিশুর জন্য নির্ধারিত এই কাজ শিশু নিজ হাতে সম্পন্ন করে। স্কুলে শিশুর জন্য সৃষ্ট পরিবেশ এমন হবে যাতে শিশু আত্মপ্রকাশে কোন প্রকার বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন না হয়। এ সকল স্কুলে যে-সকল কাজ শিশুদের জন্য নির্ধারণ করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছে শিশুর গতিশীলতা, গঠনমূলক কাজ ও ছন্দপূর্ণ নাচ-গান। উল্লেখ্য বাংলাদেশের অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন স্কুলই কিঞ্চিৎ কিংবা নামমাত্র কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতি অনুসরণ করে।

মারিয়া মন্তেসরি-এর মতে, শিশুরা স্বাধীনভাবে শেখে এবং সে শিক্ষাই বেশি কার্যকর

মারিয়া মন্তেসরি-এর মতে, শিশুরা স্বাধীনভাবে শেখে এবং সে শিক্ষাই বেশি কার্যকর। শিক্ষকের দিকনির্দেশনা ছাড়াই শিশু নিজে নিজে শেখার সুযােগ পায় মারিয়া মন্তেসরি উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে। তথ্যের স্বতঃস্ফূর্ত আবিষ্কারের পথ খুলে যায় শিশুর। কার্ডবাের্ডে আটকানাে বর্ণমালা এবং অন্যান্য উপকরণের মাধ্যমে শিশুরা শব্দ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষা পরিসম্পদ উপকরণের উপর গুরুত্বারােপ করা হয়েছে। শিশুর প্রাথমিক উন্নয়নের জন্য মন্তেসরি এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

শিক্ষাদর্শনের যে বিষয়টির উপর তিনি গুরুত্ব আরােপ করেন সেটি হচ্ছে শিশুদের স্বাধীনভাবে শেখার প্রয়ােজনীয়তা। শিশুরা সৃষ্টিশীল উপকরণের সাহায্যে শিশুদের সৃষ্টি আনন্দময় শিক্ষাদানের পদ্ধতিই মন্তেসরি স্কুলের পাঠদানের বৈশিষ্ট্য। শিশুদের ওপর কোনাে কিছু চাপিয়ে না দিয়ে নিজেদেরটা নিজেদের মতাে করে বুঝে নেবার পদ্ধতি মন্তেসরি পদ্ধতি হিসেবে বিশ্বের দেশে দেশে গৃহীত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মন্তেসরি স্কুল।

১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে ইতালির চিত্তা দি কাস্তল্লোতে প্রথম মন্তেসরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হয়। ১৯১০ এ ‘দ্য মন্তেসরি মেথড’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্রিটেন, আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে তার কাছে মন্তেসরি পদ্ধতিতে স্কুল প্রতিষ্ঠায় সহযােগিতা করার জন্য আবেদন আসতে থাকে। নানা বিতর্ক সত্ত্বেও ইতালিসহ সারা বিশ্বে এই পদ্ধতি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, প্রায় সত্তর বছর বয়স পর্যন্ত স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করতে হয় ।

সক্রেটিসের মতে, শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রশ্নের

বিশ্লেষণমূলক উত্তর দেওয়া এবং তাদের প্রশ্নকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত সক্রেটিসের মতে, আত্মজ্ঞানই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে সার্বিক জ্ঞানার্জনের ক্ষমতা সুপ্ত থাকে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলাে তার এ সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ সাধন, জ্ঞানের ক্রমাগত উন্নয়ন ও পরিবর্তন সাধন । প্রশ্নোত্তর বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি শিক্ষা দিতেন। শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও শিশুদের প্রশ্নের বিশ্লেষণমূলক উত্তর দেওয়া এবং তাদের প্রশ্নকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। যুক্তি দিয়ে তিনি প্রশ্নের জবাব দিতেন এবং নতুন প্রশ্ন সৃষ্টি করতেন।

শিক্ষার্থীরা তাঁর পাঠদানের সময় বেশি কথা বলতেন। তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতিতে অনুকরণের মাধ্যমে শেখা ও মুখস্ত করাকে উৎসাহ দিতেন না। বিশ্লেষণ করে জ্ঞানের বিষয়কে খুঁচিয়ে দেখাকে তিনি প্রশংসা করতেন। এটাই ছিল তাঁর শিক্ষাদানের পদ্ধতি। শিক্ষাদানের জন্য সংক্রেটিস কোন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেননি। সক্রেটিসের জন্ম ৪৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, মৃত্যু ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটোও জেনােফনের বিবরণী থেকে সক্রেটিসের শিক্ষাচিন্তা সম্পর্কে জানা যায়।।

রুশাের আদর্শ অনুযায়ী শিশু তিন রকমের শিক্ষকের কাছ থেকে।

পাঠ লাভ করে। ১. প্রকৃতি ২. মানুষ ৩. বস্তুসামগ্রী। রুশাে’র শিক্ষা দর্শন হচ্ছে প্রকৃতিবাদ। মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকে শিখবে। শিশুও তাই। প্রকৃতিই মানুষের একমাত্র শিক্ষক। প্রাকৃতিক বিষয় ও সৌন্দর্যকে উপলব্ধির মাধ্যমে যে শিক্ষা লাভ করা যায় তা-ই তার মতে প্রকৃত শিক্ষা। এই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন প্রকৃতি নিজে।

রুশাের আদর্শ অনুযায়ী শিশু তিন রকমের শিক্ষকের কাছ থেকে পাঠ লাভ করে : প্রকৃতি, মানুষ ও বস্তুসামগ্রী। এই ত্রিশক্তির সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাবে মানুষ শিক্ষিত মানুষে পরিণত হয়। তিনি প্রকৃতিকে তিনটি অর্থে ব্যবহার করেছেন : মানসিক প্রকৃতি, জাগতিক প্রকৃতি ও জৈবিক প্রকৃতি। ব্যক্তির পরিপূর্ণ স্বাভাবিক বিকাশই হচ্ছে রুশাের শিক্ষার উদ্দেশ্য। শিশুদের ক্ষেত্রেও তাই। রুশাের রূপক গ্রন্থ ‘এমিল’ শিক্ষাক্রম সংগঠন ও শিক্ষাদান পদ্ধতির। ক্ষেত্রে নতুন যুগের দিকনিদের্শক।

শিশুর দেহ ও মনের স্বাভাবিক বিকাশের প্রতি লক্ষ্য রেখে শিশুর।

জন্য শেখা ও শেখানাের আয়ােজন করতে হবে : শিক্ষার ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার ও প্রত্যক্ষণের উপর গুরুত্ব প্রদান, শিক্ষালাভে শিশুর আগ্রহ, প্রবণতা ও তৃপ্তিলাভের প্রতি নজর রাখা এবং শিক্ষাদান ব্যবস্থায় স্বাভাবিকতা রাখা, যাতে করে শিশু তার চারপাশের জগতের উপযােগী হয়ে গড়ে উঠে। শিক্ষাদানে শিক্ষকের কোন সক্রিয় ভূমিকা অনাবশ্যক। শিশুই হবে সক্রিয় আবিষ্কারক। চারপাশের জগৎকে দেখে শুনে ও বিচার করে সে শিখবে।

পৃথিবীর সীমাবদ্ধ পরিবেশে বসবাস করে মানুষ বিচরণ করে জ্ঞানের অপরিসীম পরিসরে। এ পরিসরে প্রবেশ করতে হয় পরিচিত পরিবেশ পরিসরের মধ্য দিয়ে। নিজ নিজ ভাষাজ্ঞানের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ শিশু-কিশাের বা প্রাপ্তবয়স্ক সব শ্রেণির মানুষ জ্ঞান রাজ্যে প্রবেশ করে ভাষা নির্ভর হয়ে। মানুষ ভাষা শেখে দেখে-শুনে, বলে, অঙ্গভঙ্গি, ইশারা, ইঙ্গিত, পড়ালেখা, কথাবার্তা বিভিন্ন আঙ্গিকে। ভাষা একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। সাধারণত আমরা ভাষা শিখে থাকি কথা বলা, দেখা, শােনা ও পড়ালেখার মাধ্যমে। পড়ালেখা চর্চার, প্রয়ােগের প্রাথমিক হাতিয়ার হচ্ছে প্রত্যেক ভাষার বাক্য শেখার, শব্দ শেখার, অক্ষর শেখার অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ভাষা শেখার উপকরণ। এ উপকরণ হতে পারে অডিও, ভিডিও, পুস্তক/চার্ট কার্ড বা যে-কোন আঙ্গিক। ভাষা জীবনী শক্তি। আমাদের বাংলা ভাষা অনেক বছরের পুরােনাে সমৃদ্ধ ভাষা।

সে হিসেবে আমাদের শিশু-কিশােরদের প্রাথমিক পর্যায়ে ভাষা শেখার, চর্চার বা পড়াশােনা করার প্রয়ােজনীয় উপকরণের অভাব রয়েছে। এ কারণে শিশু-কিশাের এমনকি বয়স্ক নিরক্ষরদের কাছে সাক্ষরতা অর্জন, চর্চা বা পড়ালেখার মাধ্যমে অব্যাহত শিক্ষাচর্চা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেনি। আকর্ষণীয় উপকরণ এ অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারে।

আমি এর বাস্তব প্রয়ােগ দেখতে পেয়েছি দীর্ঘদিন নিরক্ষর শিশু-কিশাের এবং বয়স্কদের সাক্ষরতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার সুবাদে। কার্যকর আকর্ষণীয় ছােট্ট একটা উপকরণ দিয়ে শিশু-কিশােরদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তােলা যায়। যেসব উপকরণ শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের আকৃষ্ট করে সেসব উপকরণ প্রয়ােজন।

এ সময় শিশু-কিশােরদের সাথে বাধ্যবাধকতা চলে না। তাদে দাবি-দাওয়া শােনা, পড়াশােনার অভ্যাস এবং বােধ জাগিয়ে তােলাটাই শিক্ষার আসল পুঁজি। বাধ্যবাধকতা এ পর্যায়ে জেদ তৈরি করে। এই জেদ থেকে সৃষ্টি হয় ভীতি। ভীতি শিশু-কিশােরদের পিছিয়ে দেয়। শিশুদের সিলেবাস বাধ্যবাধকতাবিহীন। আর ক্লাসরুমে ব্যবহার্য সিলেবাস বললে কেমন যেন একটা বাধ্যবাধকতা এসে যায়। শিশুদের মন জয় করতে হয় এই সিলেবাস দিয়ে নয়, সিলেবাসের বাইরে নিয়ে।

আনুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিশুদের শিক্ষা

কার্যক্রমের জন্য শিশুতােষ উপকরণ প্রণয়ন করা জরুরী | শিশুরা শিশুসুলভ আচরণ করবেই। এই মধ্য দিয়েই শিশুদের শিক্ষার জন্য তৈরি করতে হবে। এর জন্য চাই শিশুটে শিশুতােষ উপকরণ। শিশুদের উপযােগী করে প্রণীত বা উন্নয়নকৃত।

নিকত উপকরণই শিশুতােষ উপকরণ । । উপানুষ্ঠানিক উভয় শিক্ষার ক্ষেত্রে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য শিশুতােষ উপকরণ প্রণয়ন করা হয়। এসব উপকর মধ্যে রয়েছে; পাঠ্যবই, সহপাঠ বই, বিভিন্ন শিক্ষামূলক খেলনা ইত্যাদি। এসব উপকরণ রচনা ও প্রণয়নের পর তা চড়াত ও উন্নয়নের জন্য মাঠ পরীক্ষণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকগণও শিশুদের জন্য রচনা করেন গল্প, ছড়া, কবিতা, উপনা অভিযান কাহিনী, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ইত্যাদি। এসব রচনা সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন। শিশুতােষ উপকরণের ধরন তা হতে হয় শিশুদের কাছে আকর্ষণীয়, মজাদার ও আগ্রহ সৃষ্টিকারী। শিশুতােষ বই বড় হরফে, যথেষ্ট ছবি অলঙ্করণসহ মুদ্রিত হতে হয়। বই রঙিন হলে শিশুরা বেশি আকৃষ্ট হয়। আর খেলনা জাতীয় উপকরণ হতে হয় সত।

জানেন কি কিভাবে শিশুর বিকাশ হয়

ব্যবহারযোগ্য এবং শিশুর মনােযােগ আকর্ষণে সক্ষম। শিশু, মনস্তত্তের আলােকে শিশুতােষ উপকরণ প্রণয়ন হয়। এসব উপকরণ শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং মনােযােগ আকর্ষণ করে বিধায় স্মৃতিশক্তির ও উন্নয়ন ঘটায়। শিশুতােষ বইয়ের ক্ষেত্রে বিগ বুক (Big Book) অন্যতম।

এটি খুব সহজ ভাষায় লেখা, মজাদার ও রঙিন ছবিসহ চিত্রায়িত এবং আকর্ষণীভাবে উপস্থাপিত। এই ধরনের বই সাধারণ বই থেকে আয়তনে বড় হয়। বিগ বুকে ব্যবহৃত শব্দের আর এবং ছবিও বড় বড় হয়ে থাকে। কখনাে কখনাে গল্পের সঙ্গে বা বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল রেখে কোন প্রাণী বা জিনিস অবয়বে বিগ বুক তৈরি হয়। এতে করে শিশুরা বইটি ধরে, নেড়েচেড়েও দেখে আনন্দ পায়।

বিগ-বুক এর মূল উদ্দেশ্য হলাে শিশুর কল্পনা শক্তির বিকাশ ও নির্মল আনন্দের মাধ্যমে তার শিখনকে স্থায়ী করা। একজন শিক্ষক প্রয়ােজনীয়। অঙ্গভঙ্গি ও স্তরের ওঠানামার মাধ্যমে দলগতভাবে শিশুদের বিগ-বুক থেকে পড়ে শােনান। পুরাে বইটি কোন বাের্ডে আটকে শিশুদের আগ্রহী চোখের সামনে মেলে ধরেন। তাতে শিশুরা বেশ মজা পায়। পড়ার সময় শিক্ষকের সঙ্গে একাত্মবােধ করে।

শিশুর সার্বিক বিকাশ

বিগ বুক-এর বিষয়বস্তুর কোন একটি বিশেষ অংশের প্রচুর পুনরাবৃত্তি করা হয়। শিক্ষক পুনরাবৃত্তি করা অংশটুকুর। ওপর বেশি জোর দেন যাতে পুনরাবৃত্তির সময় শিশুরাও তার সঙ্গে গলা/সুর মেলাতে পারে। বিগ বুক পাঠ শুরুর পূর্বে শিক্ষককে বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিশুদের আগ্রহও কৌতুহলী করে তুলতে হয় । পাঠ চলাকালে শিশুদের পাঠের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হয়।

পাঠ শেষে শিশুদের পঠিত বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশকে ‘ফোকাস করা হয়। মনে করে বলতে বলা হয়। আবার কখনও বা শিশুদের গল্পটি পুনর্গঠনে উৎসাহী করা হয়। ফলে প্রাক-শৈশব পর্যায়ের।

একজন শিশু-শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক হয়, দক্ষতা লাভে সহায়ক হয়। শুধু বিগ বুক কেন, শিশু-কিশােরদের সামনে উপস্থাপিত উপকরণটা যদি বিরাজমান বিষয়ের সাথে খানিকটা সম্পৃক্ত করিয়ে দেয় বাকিটুকু শিক্ষার্থীরা নিজেরা রপ্ত করে নিতে পারে। ভাষার বা বিষয়ের মূল সূত্রটার সাথে একটু পরিচয় করিয়ে দিলে শিক্ষার্থীরা ভাষার মূল সুর/বিষয় আয়ত্তে আনতে পারে।

শিশুর সার্বিক বিকাশ

প্রাথমিক পর্যায়ে অক্ষরগুলাের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্যে যে অক্ষর উপস্থাপন করা হচ্ছে সে অক্ষর মিশে আছে এমন পরিচিত বিষয় সুর ছন্দে ছবি/অলঙ্করণসহ গেঁথে দিলে সে অক্ষর শিক্ষার্থীদের মনেও গেঁথে যায় বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যেমন

‘অ’-অঙ্ক বড় মজার খেলা

মজায় মজায় কাটে বেলা

জগৎটাকে জানতে ভাই

মজার খেলা অঙ্ক চাই।

আ’আকাশ বড় খােলামেলা

দিনের বেলায় উষার মেলা

রাতের বেলায় চাঁদের হাসি

তারা ভাসে রাশি রাশি

বাক্যই ভাষার প্রাণ। ছন্দবদ্ধ বাক্যে বিষয়ের বর্ণনা সে সাথে বর্ণিত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ আকৃতি/ছবি শিশু-কিশােরদের বিমােহিত। করে।

খেলার ছলে পড়া, অন্যের মুখে শােনা, অক্ষর চেনা, বাক্যের সাথে পরিচিত হওয়া ও বিষয়ভিত্তিক পরিবেশের সাথে পরিচিত হতে সহায়তা করে অর্থাৎ পুরাে বিষয়ের একটা অবয়ব চেতনায় ছাপ ফেলে। শিশু-কিশােরদের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করে। উদ্রেক ঘটে চিন্তা শক্তির। চিন্তার উদ্রেক থেকেই জাগে প্রশ্ন। এভাবে ঘটে চিন্তার বিকাশ। চিন্তা করতে গিয়ে বিষয়টা স্মৃতিতে দাগ কাটে। স্মৃতি শক্তির উন্নয়ন ঘটে।

শিশুর সার্বিক বিকাশ

একটি আদর্শ শিক্ষা উপকরণ স্মৃতি শক্তির উন্নয়ন ও চিন্তার বিকাশে সহায়ক। এ পর্যায়ে এটাই শিশু-কিশােরদের শিক্ষার মূল প্রেরণা। এ প্রেরণাই শিশু-কিশােরদের এগিয়ে নেয় জীবন জগতের আকর্ষণে পড়াশােনার বিশাল জগতে । শিশু-কিশােরদের উৎসুক মনে আকর্ষণ সৃষ্টিই একটি আদর্শ শিক্ষা উপকরণের প্রাণকথা ।

সিলেবাসের বাধ্যবাধকতা দিয়ে নয়, আনন্দের সাথে শিক্ষা দান শিশু-কিশােররা চিরসুন্দর, চির অম্লান, নিরলস, গতিময়। এ গতিময়তাই শিশু-কিশােরদের প্রা” বড়দের দায়িত্ব বিদ্যমান গতিময়তাকে কার্যকরভাবে সঠিক পথে প্রবাহিত হতে সহায়তা করা।

এ সহায়তার কার্যকর পথ হচ্ছে শিশু-কিশােরদের মনে আনন্দ দেয়া। এমন কিছু শিক্ষা উপকরণ তাদের হাতে দেয়া যেগুলাে থেকে আনন্দ সহকারে শেখা যায়। খেয়াল রাখতে হবে এ আনন্দ যেন অব্যাহত থাকে। সিলেবাসের বাধ্যবাধকতা দিয়ে নয়। শিশুকাল শেখার কাল। নতুন কিছু রপ্ত করতে মােটেও আলসেমি করে না।

শিশুর সার্বিক বিকাশ

আসল কথা হলাে বিষয়টা ভালাে লাগাতে হয়। শিশু-কিশােররা শেখে খেলার ছলে। সারাদিন চলাফেরার পরিবেশ থেকে, বড়দের থেকে। শিশু-কিশােরদের শেখার ক্ষমতা অনেক। এ সময় শিখতে পারে একসাথে অনেক কিছু। শিশু-কিশােরদের বিচরণ ক্ষেত্র বিশাল, অনেক বিশাল, এ বিশালতের কোন সিলেবাস হয় না। সিলেবাস বললে কেমন যেন একটা সীমাবদ্ধতা এসে যায়। শিশু-কিশােররা এ সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত।।

শিশু-কিশােররা যতই শ্ৰেণী গুণতে থাকে তাদের বিষয়-আশয়গুলাে ততই সিলেবাসবদ্ধ ও শ্রেণীবদ্ধ হতে থাকে। নিজেদের সিলেবাসবদ্ধ ও শ্রেণীবদ্ধ করার আগের সময়টুকু সত্যিই বেশ উপভােগ্য। এ উপভােগ্য সময়টুকু আরাে উপভােগ্য হয়ে ওঠে আনন্দদায়ক মজাদার সহায়ক আদর্শ শিক্ষা উপকরণের সংস্পর্শ পেলে। একটি আদর্শ শিক্ষা উপকরণ শিশু-কিশাের শিক্ষার্থীদের সেই সহধরী সংস্পর্শ দেবে, সময়কে উপভােগ্য করে তুলবে। শিক্ষার সদর প্রসারী জগতে প্রবেশের সুযােগ এনে দেবে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

About Primary preparation

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *